সর্বশেষ এক বছরে এক-তৃতীয়াংশ ব্রিটিশ কৃষক খামার থেকে কোনো মুনাফা করতে পারেননি। এর কারণ হিসেবে ম্যাককেইন ফুডসের নতুন ফার্মডেক্স প্রতিবেদনে ব্রেক্সিট-পরবর্তী সংকটকে দায়ী করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য হওয়ায় একসময় মহাদেশটির এ জোট থেকে ব্রিটিশ কৃষকরা অনুদান পেতেন। কিন্তু ব্রেক্সিটের পর দেশটির কৃষি খাতে সহায়তা কমে গেছে। একই সঙ্গে সরকারি নতুন নীতিমালার কারণে তারা আর্থিক চাপের মুখে রয়েছেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
ফার্মডেক্স অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের কৃষি খাতের পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে কৃষকদের আরো সহায়তা প্রয়োজন।
পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ১৪ শতাংশ ব্রিটিশ কৃষক গত বছর তাদের উৎপাদিত পণ্য বাবদ ১০ শতাংশ বা তার বেশি মুনাফা করতে পেরেছেন। এক-তৃতীয়াংশের বেশি অর্থাৎ ৩৫ শতাংশ কৃষক জানিয়েছেন, উৎপাদন খরচ মিটিয়ে তারা কোনো মুনাফা পাননি বা লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে রয়েছে বড় ধরনের অর্থ বিনিয়োগকারী খামারগুলো। ২৫ লাখ পাউন্ড বা তার বেশি মূল্যের খামারের ২৮ শতাংশই কোনো মুনাফা করতে পারেনি।
ব্রেক্সিটের আগে ইইউ থেকে কৃষকরা বার্ষিক আয়ের প্রায় অর্ধেক অনুদান পেতেন। ব্রেক্সিটের পরে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষি অর্থায়নের নতুন নিয়ম চালু হয়। ইংল্যান্ডে স্বয়ংক্রিয় অর্থায়ন কমিয়ে পরিবেশ রক্ষাভিত্তিক কৃষি প্রকল্প বা স্কিম ইএলএম চালু করা হয়। কৃষকরা বলছেন, এর আওতায় পাওয়া সহায়তা ইইউর অনুদানের চেয়ে অনেক কম।
প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়ার ধীরগতি ও অনিশ্চয়তাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। চলতি বছরের মার্চে হঠাৎ লেবার সরকারের বাজেট শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়। কিছু ফার্ম নতুন স্কিমের কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
খামার মালিকদের সংগঠন ন্যাশনাল ফারমার্স ইউনিয়নের জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে পাহাড়ি অঞ্চল ও উঁচু জমিতে অবস্থিত খামার (আপল্যান্ড ফার্ম) সাসটেইনেবল ফার্মিং ইনসেনটিভ অ্যান্ড কান্ট্রিসাইড স্টুয়ার্ডশিপের অধীনে গড়ে ৩৭ শতাংশ অনুদান হারিয়েছে।
সরকারি নীতি অনুযায়ী, ১০ লাখ পাউন্ডের বেশি মূল্যের খামারে উত্তরাধিকার কর প্রযোজ্য হবে। এর প্রতিক্রিয়ায় কৃষকরা বলছেন, উত্তরাধিকার করের কারণে তারা জমি সন্তানদের দিতে পারবেন না। এছাড়া অতিবৃষ্টি ও খরার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও ফসলের ক্ষতি করেছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৫১ শতাংশ কৃষক গত বছর আর্থিক চাপের কারণে কৃষি খাত ছাড়ার কথা ভেবেছেন। মাত্র ৪ শতাংশ মনে করেন, সরকার তাদের যথেষ্ট পরিমাণ সহায়তা দিচ্ছে। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৬১ শতাংশ কৃষক বলছেন, তারা অতিরিক্ত পরিশ্রম করছেন। এটি তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ভরা মৌসুমেও এক-তৃতীয়াংশ কৃষক সপ্তাহে ৭০ ঘণ্টার বেশি কাজ করছেন।
কৃষকদের ধৈর্য ও দৃঢ়তার প্রশংসা করলেও ম্যাককেইন জিবি অ্যান্ড আইয়ের কৃষি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেমস ইয়াং প্রতিবেদনটিকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। তিনি চান প্রতিবেদনটিকে গুরুত্ব দিয়ে কৃষক খাতে সহযোগিতা বাড়ানো হোক।
এদিকে যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর এনভায়রনমেন্ট, ফুড অ্যান্ড রুরাল অ্যাফেয়ার্স বলছে, আমরা জানি কৃষি খাতে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দীর্ঘ সময়ের খরা, এরপর অতিবৃষ্টি কিছু ফসলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রকৃতিবান্ধব বাজেটের মাধ্যমে কৃষকদের পাশে দাঁড়াচ্ছি আমরা, যাতে তারা ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং আমাদের থালায় আরো বেশি ব্রিটিশ খাবার পৌঁছাতে পারেন। কৃষকরা যাতে ন্যায্য চুক্তিতে পণ্য সরবরাহ করতে পারেন তা নিয়েও আমরা কাজ করছি।